নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মেরাজুল ইসলাম জয়কে (২৮) হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় কাউন্সিলর শাহীন মিয়াসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে কাউন্সিলর শাহীনকে। হত্যাকান্ডের এক বছরের ব্যবধানেই সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর ওই মামলাটির চার্জশীট আদালতে দাখিল করেছে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই সৈয়দ রুহুল আমিন।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় বন্দর থানার ২১নং ওয়ার্ডের রুপালী আবাসিক এলাকায় মেরাজুল ইসলাম জয় (২৮) তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আয়মান ইঞ্জিনিয়ারিং অবস্থান করাকালীন বিবাদীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পূর্ব শত্রুতার জেরে দেশীয় ধারালো অস্ত্র চাপাতি, রাম দা, বগি, চাকু, হকিস্টিক, চাইনিজ কুড়াল, লোহার জিআই পাইপ ও কাঠের ডাঁসা নিয়ে হামলা করে। সন্ত্রাসীদের হামলায় মেরাজুল ইসলাম জয় ও তার বন্ধু আলআমিন গুরুত্বর আহত হয়। আহত দু’জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মেরাজুলকে মৃত ঘোষণা করে। পরদিন ৪ এপ্রিল নিহত মেরাজুলের মা নাসরিন বাদী হয়ে সিটি করপোরেশনের ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহীন মিয়াসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ৬ জনকে আসামী করে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ এক বছর তদন্ত শেষে গত এপ্রিল মাসে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই সৈয়দ রুহুল আমিন আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। এতে প্রধান আসামী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে নাসিকের ২১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ শাহীন মিয়াকে। মামলায় মোট অভিযুক্ত করা হয়েছে ১৫ জনকে। মামলায় অভিযুক্তরা হলো, বন্দর চিনারদী এলাকার শাহ আলমের পুত্র আকিব হাসান রাজু ওরফে চুল্লা রাজু, ছালেহনগর এলাকার খলিলুর রহমানের পুত্র সোহেব ওরফে সৌরভ, ছালেহনগর এলাকার নূর হোসেনের দুই পুত্র সাখাওয়াত হোসেন পিংকি ও বাবু, আব্দুল জলিলের পুত্র ফয়সাল ওরফে রবিন, মৃত সামছুদ্দিন প্রধানের পুত্র মোঃ কাজল প্রধান, বন্দর রূপালী আবাসিক এলাকার বাকি মিয়ার পুত্র মানিক, ছালেহনগর এলাকার মৃত মুছা মিয়ার পুত্র স্বপন, উত্তর রূপালী এলাকার মৃত সোয়েব আলী বেপারী ওরফে তামুক ওয়ালার পুত্র আব্দুর রব, রূপালী ১নং গলির মৃত কুদ্দুস মিয়ার পুত্র রানা ওরফে কাইল্লা রানা, ছালেহনগর এলাকার মোতা মিয়ার পুত্র নাদিম, আব্দুল মান্নানের পুত্র মোঃ রমজান, মোঃ কামালের পুত্র মোঃ টেলু সুমন, মোঃ ইউনুচ বগের পুত্র মোঃ রাকিব (৩২)।