ফতুল্লা প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইরে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে সিজান (২৫) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মো. মাহবুবুল আলম, সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে রবিবার (৫ জুলাই) রাত ১২টার দিকে নিহতের মা শিল্পী বেগম (৪৪) বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন পশ্চিম মাসদাইরের খলিলের মোড় এলাকার আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম মো. কাউছার আহমেদ কাশেমী (৪০), আব্দুল গনি হুজুর (৫০), আজহার রাজমিস্ত্রী (৫৫), সাইদুল (৪২), আলম (৩৪) ও জিলানী ফকির (৫৫)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে মোবাইল চোর সন্দেহে অনিক নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি সিজানের নাম বললে আলমসহ আল ফালাহ সমাজকল্যাণ সংঘের কয়েকজন সদস্য সিজানকে তার বাসার সামনে থেকে খলিলের মোড়ে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ও অনিককে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে স্টিলের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। এতে সিজানের ডান পায়ের হাঁটুর নিচের হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিযুক্তরা সিজানকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন।
পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৮টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
এজাহারে নিহতের পরিবার দাবি করেছে, সিজান একসময় অসৎ সঙ্গের কারণে বিপথগামী হলেও পরে তাবলিগ জামাতে অংশ নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন এবং বড় ভাইয়ের কাঁচামালের ব্যবসায় সহযোগিতা করছিলেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে আল ফালাহ সমাজকল্যাণ সংঘের সহসভাপতি ও আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম কাউছার আহমেদ কাশেমী বলেন, ‘সিজান ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মোবাইল ছিনতাই ও বিক্রির বিষয়ে ইমন নামে এক ব্যক্তির ভিডিও বক্তব্য রয়েছে। মামলার বিষয়টি জেনেছি।
আইনি প্রক্রিয়ায় মামলার মোকাবেলা করব।’
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘নিহতের মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’