সোনারগাঁ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে লম্পটের ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত জখম হয়েছেন রেজিয়া বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধা নানি।
গত বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী জামানের (৪৫) বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত জামান স্থানীয় সোবহান মিয়ার ছেলে এবং এলাকায় অন্যতম শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত জামান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত। একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় সে দীর্ঘদিন ধরেই রেজিয়া বেগমের নাতনি জান্নাতুল ফেরদৌসকে উত্ত্যক্ত (ইভটিজিং) করাসহ অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এর আগে জান্নাতুলের স্বামী মো. রাহাত (২৫) এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে জামান তাকেও মারধর ও গালিগালাজ করে। এরই ধারাবাহিকতায়, গত বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জান্নাতুলকে বাড়িতে একা পেয়ে জামান ঘরে প্রবেশ করে। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে সে জান্নাতুলকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
জান্নাতুলের আর্তচিৎকার শুনে তার নানি রেজিয়া বেগম দ্রুত ঘরের সামনে ছুটে যান। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখে তিনি দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং নাতনিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জামান তার কোমরে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে রেজিয়া বেগমের হাতে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। একপর্যায়ে নানি ও নাতনিকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে আহত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় সে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিএনপির কোনো পদ পদবী না থাকলেও চিহ্নিত এ মাদকসেবী বিএনপি নেতা দাবী করে এলাকায় দখল বানিজ্য ও রমরমা মাদক ব্যবসা দেদারসে করে বেড়াচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন স্থানীয় অবসর প্রাপ্ত পশু ডাক্তার মোস্তফা মিয়ার বাড়ি দখলের জন্য স্থানীয় সন্ত্রাসীদের নিয়ে হামলা চালায়। এ নিয়ে তা ছেলে বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নান এ ব্যপারে স্পষ্টভাবে বলেন, বিএনপির নাম জড়িয়ে যে অপকর্ম করবে তাকে উত্তমমাধ্যম দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দিবেন৷ অন্যায়কারী কোনো ব্যক্তি আমাদেএ দলীয় লোক হতে পারেনা৷
সোনারগাঁও থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত জামান পলাতক রয়েছে। তাকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া এবং অভিযান চলমান রয়েছে।