বন্দর প্রতিনিধি
বন্দর থানা বিএনপি সভাপতির ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ তিন ব্যক্তির পুনরায় সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বন্দর এলাকার একাধিক বিএনপি নেতাকর্মী এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, ছবিতে থাকা তিন ব্যক্তি—জাহাঙ্গীর, হাজী মো. কবির হোসেন ও মোহাম্মদ ইকবাল ওরফে মেহের ইকবাল—পূর্বে বিভিন্ন সময় এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জুলুম-নির্যাতনসহ নানান অপকর্মে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধাভোগ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে।
জাহাঙ্গীর (পিতা: পিয়ার আলী, গ্রাম: বুরুন্দি)
অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ আগস্টের আগে তিনি বন্দর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত খান মাসুদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এলাকার বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে আর্থিক লেনদেন, জার্সি বিতরণসহ নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন তিনি। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসহায় মানুষের জমি-জমা দখল ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন।
হাজী মো. কবির হোসেন
(সাবেক সহ-সভাপতি, কলাগাছি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ; গ্রাম: বুরুন্দি)**
অভিযোগে বলা হয়, তিনি আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এমপি থেকে শুরু করে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পর্যন্ত সবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজি, অবৈধ গ্যাসলাইন, বৈদ্যুতিক খুঁটির টাকা থেকে শুরু করে ডেজার ব্যবসা—সব ধরনের আর্থিক লেনদেন তার মাধ্যমে হতো।
মোহাম্মদ ইকবাল ওরফে মেহের ইকবাল
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনি সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ লোক ছিলেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় জুলুম-নির্যাতন চালাতেন। মসজিদ, ঈদগাহ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন কমিটির নিয়ন্ত্রণ তার হাতে ছিল। অভিযোগ রয়েছে—অধিক মুনাফার বিনিময়ে পথ বিক্রি থেকে শুরু করে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তিনি।
বিএনপিতে ঠাঁই পাওয়ার অভিযোগ
স্থানীয়দের দাবি, পূর্বের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যাচ্ছিলেন বলে বহু বিএনপি নেতা তাদের আশ্রয় দেননি। কিন্তু পরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বন্দর থানা বিএনপি সভাপতি শাহেনশা আহমেদের কাছে তাদের ঠাঁই হয়।
এখন সেই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তারা আবারও বুরুন্দির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনরায় সক্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগ
অভিযোগকারীরা জানান, পূর্বের ন্যায় আবারও স্থানীয় আওয়ামী দোসররা চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি ও নৈরাজ্য শুরু করেছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।