শহর প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের পরিচয়দানকারী কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ যুবদলের কেউ নন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। গত ১১ জুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এরপর থেকে জোসেফ যুবদলের ব্যানারে বিভিন্ন আয়োজন থেকে বিরত থাকেন। তবে সম্প্রতি মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের প্রশ্রয়ে আবারও মহানগর যুবদলের ব্যানারে সক্রিয় হয়েছেন জোসেফ বলে অভিযোগ উঠেছে।
জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৭ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের র্যালি শেষে আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল বলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অন্যায়ের মাধ্যমে বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে যুবদলের পদ-পদবি অর্জনের কোনো সুযোগ নেই। জোসেফকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কেউ যুবদলের সদস্য বা পদ-পদবিতে না থেকেও নিজেকে সংগঠনের নেতা হিসেবে পরিচয় দিলে তা যাচাই করা উচিত। সামান্য অর্থের বিনিময়ে কাউকে যুবদলের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া যাবে না। যাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
এমন বক্তব্য দেওয়ার পরদিন যুবদলের কেউ নন—এমন জোসেফের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। এ সময় ফ্রি চিকিৎসা কার্যক্রম উদ্বোধনের পর টিপুর চোখ পরীক্ষা করে চিকিৎসা দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
এদিকে, যুবদলের কেউ নন—এমন জোসেফের অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিবের উপস্থিতি নিয়ে মহানগর যুবদলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
গত ১১ জুন কেন্দ্রীয় যুবদলের একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা যাচ্ছে যে, কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ নামে জনৈক ব্যক্তি বিভিন্ন স্থানে নিজেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের বর্তমান কমিটির পদধারী নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন মর্মে অভিযোগ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল এবং সদস্যসচিব সাহেদ আহমেদের নেতৃত্বাধীন ৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ নামে কেউ নেই। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, তাঁর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ভার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল বহন করবে না।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপির নির্দেশনা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়েছে।