সোনারগাঁ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফকির জহিরুল ইসলাম (৪৮) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার রাতে উপজেলা শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় তাকে কুপিয়ে ফেলে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
নিহত যুবদল নেতা আড়াই হাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়ার চর গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বেপারীর ছেলে। তিনি একই ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। হত্যকান্ডের ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ফকির জহিরুল ইসলাম ও আড়াইহাজার ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোবারক হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দ্বন্ধ চলে আসছে।
সম্প্রতি আসন্ন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফকির জহিরুল ইসলাম চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। পাশাপাশি একই পদে নির্বাচন করতে চান আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোবারক হোসেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্ধ চরমে পৌঁছে।
গত বুধবার রাতে যুবদল নেতা ফকির জহিরুল ইসলাম ওষুধের ফার্মেসীর দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে ১৫-২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল পথ আটকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করে ফেলে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাগিনা ইসমাইল হোসেনের অভিযোগ, তার মামা একাধিকবার হত্যাকান্ডের টার্গেটে ছিলেন। তার ওপর দু দফায় হামলাও হয়েছে। কালাপাহাড়িয়া এলাকার মোবারক হোসেন নামের এক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তার মামার দ্বন্দ্ব ছিল। কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকায় মোবারক পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন। তিনি, তার মামার হত্যাকান্ডে জড়িতদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব খোরশেদ আলম বলেন, জহিরুল ইসলাম যুবদলের একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন। তার বাসা কালাপাহাড়িয়া হলেও সোনারগাঁ বসবাস করতেন। খবর পেলাম ১৫-২০ জনের কোনো একটা গ্রুপ তাকে হত্যা করছে। জহির প্রায়ই আমাকে বলতেন যে তাকে মেরে ফেলবে।
অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোবারক হোসেনের ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তবে হোয়াইঅ্যাপে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা দিয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি।
সোনারগাঁ থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, নিহত যুবদল নেতার চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় একটি ফার্মেসীর দোকান রয়েছে। দোকান বন্ধ করে তিনি বাসার ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।