শহর প্রতিনিধি
পোশাকশিল্প ধ্বংস করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। জেলার চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের অংশগ্রহণে এ সভার আয়োজন করা হয়।
দিপু বলেন, প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। এবারও যথাসময়ে বোর্ড হয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। তাই শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি দাবি করেন, নারায়ণগঞ্জে পাঁচ শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ১২ থেকে ১৩টিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৯০ শতাংশই কোনো পোশাক কারখানার শ্রমিক নন। তাঁর অভিযোগ, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।
ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বিরোধী দলগুলোকেও দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন।
সভায় নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। এসব খরচ বন্ধ হলে শ্রমিকদের ৩০ হাজার নয়, ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেন; শ্রমিকের কত টাকা বেতন দিতে হয়, আমরা দেব।’বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাসুদুজ্জামান। তাঁর অভিযোগ, সংগঠন দুটির বিপুল অর্থ এফডিআর করে রাখা থাকলেও সংকটের সময় শ্রমিক ও মালিকদের সহযোগিতায় কার্যকর ভূমিকা দেখা যায় না।
এ ছাড়া চলমান পরিস্থিতিতে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় নারায়ণগঞ্জ চেম্বার ও বিকেএমইএর সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, চেম্বারের সহসভাপতি আবু জাফর, পরিচালক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, সোহেল আক্তার, গোলাম সারোয়ার সাঈদ, আহমেদুর রহমান তনুসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।