বন্দর প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতের চারদিন পর নিহত হোসিয়ারী শ্রমিক যুবায়ের (২০) হত্যাকারীদেরদের ফাঁসির দাবিতে থানা ঘেরাও এবং লাশ নিয়ে মিছিল করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা|
রোববার বাদ এশা নিহতের স্বজন ও এলাকার শত শত নারী পুরুষ মিছিলে অংশ নিয়ে থানা ঘেরাও করে| এ সময় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন দারোগা মাসুদ রানাকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে তাদেরকে অবহিত করেন| পরে বাদ এশা এনায়েতনগর বাইতুল মামুর জামে মসজিদে পুলিশ প্রহরায় উক্ত জানাজা অনুষ্ঠিত হয়| জানাজা শেষে নিহত যুবায়েরের পিতা জাহাঙ্গীর হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তার সন্তানের হত্যাকারীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান| এলাকাবাসীর পক্ষে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান| অপরদিকে পুলিশের দায়িত্বে গাফিলতিসহ আইন শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি নেতা নাসির উল্লাহ টিপু পুলিশে রদবদলের অনুরোধ জানান একই সাথে উক্ত হত্যাকান্ডের নিন্দা ও হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান|
সূত্র মতে, এনায়েতনগর এলাকার ভাড়াটিয়া জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে গার্মেন্টস শ্রমিক যুবায়ের গত ৩ জুন (বুধবার) রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এনায়েতনগর ভাঙা ব্রিজের উত্তর পাশের ঢালে পৌঁছলে এ সময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা মানিক, নাক্কি সজিবসহ তিন ছিনতাইকারী তাঁর পথরোধ করে| যুবায়ের বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাঁকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে এবং তাঁর সাথে থাকা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়|
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় যুবায়েরকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়| সেখানে চারদিন চিকিৎসার পর রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন| বর্তমানে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে|