শহর প্রতিনিধি :নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াত কষ্ট দূর করতে এবং রাজধানী ঢাকার সাথে শিল্পনগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে এক ঐতিহাসিক সুখবর এসেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, আগামী ২০২৬ সালে শুরু হয়ে পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হবে বহু কাঙ্ক্ষিত ‘এমআরটি লাইন-২’ (MRT Line-2) প্রকল্প। এর মাধ্যমে আগামী এক দশকের মধ্যে নারায়ণগঞ্জবাসী সরাসরি দ্রুতগতির মেট্রোরেল যোগাযোগের আওতায় আসতে যাচ্ছেন।
এই মেগা প্রকল্পকে নারায়ণগঞ্জের মাটিতে নিয়ে আসার সুদীর্ঘ আন্দোলনে ও জনমত গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন “নিউ জেনারেশন বাংলাদেশ” (এনজিবি)। তীব্র রোদ-বৃষ্টি এবং নানা প্রশাসনিক জটিলতা উপেক্ষা করে সংগঠনটির একঝাঁক তরুণ মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে একের পর এক স্মারকলিপি প্রদান ও লবিং কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। শুরুতে এই উদ্যোগ নিয়ে অনেকের মাঝে সংশয় ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য থাকলেও তরুণদের এই দল হাল ছাড়েনি। অবশেষে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে তাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের এক বড় ঐতিহাসিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে তরুণদের আন্দোলন গতি পায়। ২৬ আগস্ট, ২০২৫: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো: আব্দুল আজিজ এবং নগর পরিকল্পনাবিদ মো: মঈনুল ইসলামের কাছে আন্দোলনের প্রথম আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫: নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রায় ১০ হাজার সাধারণ মানুষের গণস্বাক্ষর সম্বলিত একটি বিশাল স্মারকলিপি তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে পেশ করা হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫: ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক-এর সাথে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিক দাবি উত্থাপন করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মোট ৬টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এই প্রকল্পের যৌক্তিকতা তুলে ধরে লিখিত স্মারকলিপি ও প্রস্তাবনা পাঠানো হয়।
নারায়ণগঞ্জের এই স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে প্রশাসনিক টেবিল পর্যন্ত যারা অক্লান্ত শ্রম দিয়েছেন, তারা হলেন— মেহরাব প্রভাত, আলিফ দেওয়ান, মোয়াজ্জেম হোসেন সাগর, সোহাইল ইসলাম ইফতি, ফাহিম মুন্তাসির শুভ, মো: তাওহীদ ইসলাম। ডা. অঞ্জন দাস, এবং মো: সিয়াম।
প্রকল্পের নীতিগত ঘোষণা আসার পর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এনজিবি নেতৃবৃন্দ কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “লড়াইয়ের কঠিন দিনগুলোতে যাদের আমরা পাশে পাইনি, আজ সাফল্য দেখে তাদের অনেকেই ‘ক্রেডিট’ বা ‘ছবির রাজনীতি’ করতে সামনে আসছেন। তবে আমরা স্পষ্ট করতে চাই, এই জয় কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ গোষ্ঠীর নয়; এই জয় পুরো নারায়ণগঞ্জবাসীর। “নেতৃবৃন্দ আরও আহ্বান জানান, কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা অপশক্তি যেন সাধারণ মানুষের এই স্বপ্নের প্রকল্প ও তরুণদের এই নিঃস্বার্থ লড়াইকে বিতর্কিত করতে না পারে। প্রকল্পটি দ্রুত ও সুচারুভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংগঠনটি নারায়ণগঞ্জবাসীসহ দেশবাসীর কাছে আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছে।