শহর প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন গোগনগর চায়না প্রজেক্ট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মশাল মিছিল ও সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বিল্লাল হোসাইন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৭ আগস্ট রাত ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে সৈয়দপুর গোলচত্বর এলাকায় রাত্রীকালীন চেকপোস্ট ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যরা সংবাদ পান, গোগনগর চায়না প্রজেক্টের সামনে পাকা সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ জন সদস্য গোপনে জড়ো হয়ে মশাল মিছিল করছেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।
সংবাদটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে রাত ১০টা ৫ মিনিটের দিকে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা সেখানে মশাল মিছিল দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থল থেকে ৪০টি বিভিন্ন আকারের বাঁশের লাঠি উদ্ধার করা হয়। এসব লাঠির মাথায় কাপড় পেঁচানো ছিল এবং ২৭টি লাঠির মাথায় থাকা কাপড় আগুনে পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া একটি খালি ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের জারকিন এবং ১৫টি কালো রঙের মাস্ক উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, মশাল মিছিলের মাধ্যমে আগুন জ্বালিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন। এজাহারে আরও বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম প্রচার ও পরিচালনা এবং বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য ও স্লোগান দেওয়ার মাধ্যমে তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করেন।
মামলায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—আল মাসুদ (২৩), মো. আকাশ (২৫), গিয়াস উদ্দিন (৪৫), সীমান্ত (২৫), সানি (২৫), আলমগীর (৪০), সানি (৩৮), সারোয়ার উল্লাহ কায়নাত (৩৫), মকসুদুর রহমান জাবেদ (৫২), শহিদ (৪১), মো. ইমরান (২৭), দাউদ শেখ (৩০), আল আমিন (৩৫), সানি (৩২), মিঠু (৩৮), টিপু প্রধান (৩০), ইমন চাঁন ওরফে ম্যাংগো ওরফে ধর্মেন্দ্র ডোম (৩৯), রুবেল (৪৫), আরিফ (৩২), মফিকুল ইসলাম মাসুদ (৪৩), তানভীর আহমেদ অমি (৪০) এবং সাফায়েত আলম সানি (৪০)।
এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে পুলিশ আরও উল্লেখ করেছে, আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য হিসেবে সংগঠনের কর্মকাণ্ড প্রচার-প্রচারণা ও পরিচালনায় সহায়তা করে আসছিলেন। তারা পরস্পর যোগসাজশে ষড়যন্ত্র, অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রচারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্লোগান ও বক্তব্য প্রচার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন-২০০৯ (সংশোধনী/১৩)-এর ৮, ৯(৩), ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।