রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রিপন মিয়া নামে যুবদল নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়নের পাইসকা কুলি মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিপন মিয়া ভোলাবো ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। কাঠের ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, একটি ওয়াজ মাহফিলের আয়োজক কমিটিতে নাম না থাকা এবং এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের সঙ্গে রিপনের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহত রিপন মিয়া পাইসকা এলাকার মৃত শহিদুল্লাহর ছেলে। তাঁর ছেলে শাওন মিয়া ও শাহিন মিয়ার দাবি, গত ৬ ও ৭ অক্টোবর পাইসকা এলাকায় স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে একটি ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলের আয়োজক কমিটিতে রিপন মিয়াসহ এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, স্থানীয় রিফাত কাজী, ফরহাদ কাজী, তানভীর কাজী, আমিরুল কাজী ও ইমন কাজীর নাম ওই কমিটিতে না থাকায় তাঁরা ক্ষুব্ধ হন। এ ছাড়া রিপন মিয়া এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেন। এ কারণেও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে দাবি পরিবারের।
সন্ধ্যায় কথা-কাটাকাটি, রাতে হামলার অভিযোগ:
নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যায় রিপন মিয়ার সঙ্গে রিফাত কাজী ও তাঁর লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিফাত কাজী, ফরহাদ কাজী, তানভীর কাজী, আমিরুল কাজী ও ইমন কাজীসহ ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে রিপনের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলাকারীরা রিপন মিয়াকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তারের চেষ্টা পুলিশের:
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রিপন মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।